বিশ্ব অর্থনীতি
অর্থনীতি

পাকিস্তানে সাড়ে ১৮ লাখ কোটি রুপির বাজেট; প্রতিরক্ষা খাতে রেকর্ড বরাদ্দ

২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য ১৮ লাখ ৪৭ হাজার কোটি রুপির বাজেট ঘোষণা করেছে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন অর্থবছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। সরকারে সেনাবাহিনীর প্রভাব নিয়ে আলোচনার মধ্যেই ১৫ শতাংশ বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে প্রতিরক্ষা খাতে।

গণতান্ত্রিক দেশ হলেও পাকিস্তানের রাজনীতিতে সামরিক শক্তির প্রভাবের কথা শোনা যায় নিয়মিত। টালমাটাল অর্থনীতির মধ্যেও জোট সরকারের প্রথম বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে রেকর্ড বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাবে আবারও গুঞ্জনের পালে হাওয়া লেগেছে।

বুধবার (১২ জুন) পার্লামেন্টে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য ১৮ লাখ ৪৭ হাজার কোটি রুপির বাজেট ঘোষণা করেছেন পাকিস্তানের নতুন অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ আওরঙ্গজেব। যেখানে প্রায় ১৫ শতাংশ বাড়িয়ে প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২ লাখ ১২ হাজার কোটি রুপি। ঋণ পরিশোধে বরাদ্দ করা হয়েছে সর্বোচ্চ অর্থ।

মোহাম্মদ আওরঙ্গজেব বলেন, 'প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ করা হবে ২ লাখ ১২ হাজার কোটি রুপি, বেসামরিক প্রশাসন খাতে ৮৪ হাজার কোটি রুপি, অবসর ভাতার জন্য ১ লাখ ১ হাজার কোটি রুপি এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে ভর্তুকির জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি রুপি।'

নতুন অর্থবছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। অর্থনৈতিক সংকটের মাঝেই ২৫ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে সরকারি চাকুরিজীবীদের বেতন। যদিও সরকার বলছে, সংকট কেটে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের কাছ থেকে নতুন দফায় ঋণ পেতে সহায়তা করবে এবারের বাজেট।

বড় এই বাজেটে সরকারের প্রধান খাত রাজস্ব। কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হয়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ। যদিও ২৪ কোটি পাকিস্তানির মধ্যে কর প্রদান করে দেশটির মাত্র ৫ কোটি মানুষ। তাই বাজেট ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে সাধারণ জনগণের মাঝে।

এক পাকিস্তানি নাগরিক বলেন, 'প্রতিবছরের মতো তারা শুধু আনুষ্ঠানিকতাই পূরণ করছে। প্রতিবারই বাজেটকে জনগণের বাজেট বলা হয়। কিন্তু সবসময় সাধারণ মানুষকে এর জন্য কষ্ট পোহাতে হয়।'

পাকিস্তানের বাজেট সবসময় অর্থহীন শব্দের গোলকধাঁধার মধ্যে থাকে জানিয়ে আরেক নাগরিক বলেন, 'যদিও আইএমএফ আর বিশ্বব্যাংক ঋণ প্রদানে নতুন শর্ত জুড়ে দেয়, সরকার অবশ্যই এর বোঝা জনগণের ওপর চাপাবে।'

নতুন বাজেটকে উচ্চাভিলাষী বলে মন্তব্য তেহরিক-ই-ইনসাফসহ বিরোধী দলগুলোর। গেল অর্থবছর সাড়ে ৩ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হলেও পূরণ হয়েছে মাত্র ২ দশমিক ৩৮ শতাংশ। ২০ থেকে ২৪ জুন আলোচনা শেষে ২৮ জুন পার্লামেন্টে পাস করা হবে বাজেট।

এভিএস

এই সম্পর্কিত অন্যান্য খবর